আর্টিকেল পরিচিতি:
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! Monotos Creative-এর নতুন একটি ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা যারা আমার ফেসবুক এবং টিকটক নিয়মিত দেখেন, তারা জানেন যে আমি সবসময় চেষ্টা করি সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা ইলেকট্রিক বাহন তৈরি করতে। আমার সাম্প্রতিক ভিডিওতে আপনারা যে সাদা রঙের হাই-স্পিড ইলেকট্রিক স্কুটারটি দেখেছেন, সেটি নিয়ে আপনাদের আগ্রহ এবং হাজার হাজার কমেন্ট দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।
অনেকেই জানতে চেয়েছেন এই স্কুটারটির দাম কেন ১৫,০০০ টাকা রাখা হয়েছে এবং অনেকে এটি ৯,০০০ বা ১০,০০০ টাকায় কেনার অফার দিয়েছেন। আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলে আমি আপনাদের বোঝাবো কেন একটি ভালো মানের স্কুটার তৈরিতে খরচ কেমন হয় এবং যারা নিজে এটি বাড়িতে বানাতে চান, তারা কোন পার্টসগুলো ব্যবহার করবেন।
স্কুটারটির ডিজাইন ও প্রিমিয়াম ফিচারসমূহএই সাদা স্কুটারটি আমি এমনভাবে ডিজাইন করেছি যাতে এটি জ্যামের রাস্তায় খুব সহজেই চালানো যায়। এর ফ্রেমটি অত্যন্ত মজবুত এবং এতে প্রিমিয়াম হোয়াইট কালার ব্যবহার করা হয়েছে। স্কুটারটিকে আরও স্টাইলিশ করতে আমি এতে কালো এবং সবুজ স্টিকার ব্যবহার করেছি।
এই স্কুটারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সাসপেনশন সিস্টেম। পিছনে একটি শক্তিশালী রেড কালার শক অ্যাবজর্বার ব্যবহার করা হয়েছে যা রাইডিং করার সময় আপনাকে আরামদায়ক অনুভূতি দেবে। এছাড়া সামনে এবং পিছনে উভয় পাশেই ১০ ইঞ্চির টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে যা রাস্তার গ্রিপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কেন এই স্কুটারটির দাম ১৫,০০০ টাকা?
আপনারা অনেকেই কমেন্টে দাম কমানোর কথা বলছেন, কিন্তু ভাইজান, ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পার্টসের মান। আপনি যদি সস্তা এবং নিম্নমানের পার্টস ব্যবহার করেন, তবে ব্যাটারি বিস্ফোরণ বা মোটর পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
আমি এই স্কুটারে যে পার্টসগুলো ব্যবহার করেছি সেগুলোর বর্তমান বাজার দর নিচে দেওয়া হলো:
১. হাব মোটর কিট: ৫,০০০ - ৬,০০০ টাকা।
২. লিথিয়াম ব্যাটারি (১৫ অ্যাম্পিয়ার): ৮,০০০ - ৯,০০০ টাকা।
৩. শক অ্যাবজর্বার ও ডিস্ক ব্রেক: ৩,০০০ টাকা।
৪. ফ্রেম তৈরি ও পেইন্টিং খরচ: ২,০০০ টাকা।
এই প্রতিটি পার্টস আমি নিজে টেস্ট করে লাগিয়েছি যাতে এটি দীর্ঘ সময় ভালো সার্ভিস দেয়। তাই ১৫,০০০ টাকা এই বিল্ডের জন্য একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য।
প্রয়োজনীয় পার্টস লিস্ট (সরাসরি কেনার লিঙ্ক)
আপনারা যারা নিজে এই স্কুটারটি তৈরি করতে চান, তাদের জন্য আমি নিচে সবকটি পার্টসের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি। এই লিঙ্কগুলো থেকে কিনলে আপনারা সঠিক ভোল্টেজ এবং অ্যাম্পিয়ারের পার্টস পাবেন:
১. ২৪ ভোল্ট ৩৫০ ওয়াট হাব মোটর: এটি একটি হাই-টর্ক মোটর যা খুব দ্রুত স্পিড তুলতে পারে।
২. ১৫ অ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম ব্যাটারি: ভালো মাইলেজের জন্য এই ব্যাটারিটি সেরা। একবার চার্জে এটি ৩৫-৪০ কিমি চলবে।
[AFFILIATE LINK: Buy High Quality Lithium Battery Here]
৩. কি-সুইচ থ্রোটল ও ডিসপ্লে: এটি দিয়ে আপনি চাবি দিয়ে স্কুটার স্টার্ট দিতে পারবেন এবং ব্যাটারির চার্জ দেখতে পারবেন।
৪. ১৬০ মিমি ডিস্ক ব্রেক কিট: হাই-স্পিডে সেফটির জন্য এই ডিস্ক ব্রেকটি অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ টিপস
ইলেকট্রিক বাহন চালানোর সময় ব্যাটারির যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। আমি পরামর্শ দেবো ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় সবসময় আসল চার্জার ব্যবহার করবেন। এছাড়া বৃষ্টিতে স্কুটার চালানোর সময় মোটরের কানেকশনগুলো যেন ওয়াটারপ্রুফ থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
মনে রাখবেন, ভুল ওয়ারিং এর কারণে দামী ব্যাটারি বা কন্ট্রোলার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কানেকশন দেওয়ার আগে প্রয়োজনে আমার ভিডিওটি বারবার দেখে নিন অথবা কোনো দক্ষ মেকানিকের সহায়তা নিন।
আপনারা যারা সরাসরি অর্ডার করতে চান
আমি এই সাদা স্কুটারটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। আপনারা যারা সরাসরি আমার কাছ থেকে এটি কিনতে চান বা আপনাদের পুরনো সাইকেলটি ইলেকট্রিক করতে চান, তারা আমার ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন। আমরা সারা বাংলাদেশে কুরিয়ারের মাধ্যমে পার্টস এবং গাড়ি পাঠিয়ে থাকি।
যোগাযোগের ঠিকানা:
আমার ফেসবুক পেজ: Monotos Creative
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.fshfashion.com
ইমেইল: [chaudhryimran134@gmail.com]
উপসংহার:
DIY ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কাজ করা আমার স্বপ্ন। বাংলাদেশে এই ই-বাইক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে আপনাদের সাপোর্ট আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। এই আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা বাইক বা স্কুটার পছন্দ করে।
ধন্যবাদ সবাইকে, সাথে থাকুন Monotos Creative-এর!
Comments
Post a Comment