ছোট ইলেকট্রিক স্কুটার তৈরির প্রয়োজনীয় পার্টস ও অ্যাসেম্বলি গাইড: Monotos Creative-এর নতুন প্রজেক্ট


আর্টিকেল পরিচিতি:
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! Monotos Creative-এর ব্লগে আপনাদের আবারো স্বাগতম। আপনারা অনেকেই ছোট এবং পোর্টেবল ইলেকট্রিক স্কুটার বা ইলেকট্রিক বাইক তৈরি করতে পছন্দ করেন। বড় ই-বাইকের চেয়ে ছোট স্কুটারগুলো যাতায়াতের জন্য অনেক বেশি সহজ।

আজকের ভিডিওতে আমি আপনাদের দেখাবো একটি মিনি ইলেকট্রিক স্কুটার তৈরির জন্য কী কী পার্টস প্রয়োজন এবং কাজ শুরু করার আগে চাকার সাথে কীভাবে স্প্রকেট এবং ডিস্ক ব্রেক সেটআপ করতে হয়। যারা নতুন বিল্ডার, তাদের জন্য আজকের এই ব্লগটি একটি কমপ্লিট চেকলিস্ট হিসেবে কাজ করবে।



১. ১০ ইঞ্চি টায়ার এবং রিম নির্বাচন

একটি ছোট স্কুটারের জন্য ১০ ইঞ্চি টায়ার সবচেয়ে আদর্শ। আমি এখানে ১০ ইঞ্চির দুটি চাকা ব্যবহার করেছি।

  • কেন এটি সেরা: এই সাইজের টায়ার ছোট ফ্রেমে খুব সহজেই ফিট হয় এবং রাস্তার গর্তে খুব একটা ঝাঁকুনি দেয় না।

  • টিপস: চাকা কেনার সময় দেখে নেবেন তাতে ডিস্ক ব্রেক এবং চেইন স্প্রকেট লাগানোর জন্য নাট দেওয়ার জায়গা আছে কি না।

২. ২৪ ভোল্ট ৩৫০ ওয়াট হাই-স্পিড মোটর

আমাদের এই ছোট গাড়ির ইঞ্জিন হলো এই ২৪ ভোল্টের ৩৫০ ওয়াট মোটরটি। এটি একটি ব্রাশড (Brushed) ডিসি মোটর।

  • শক্তি: এটি আকারে ছোট হলেও একজন মানুষকে নিয়ে ৩০-৩৫ কিমি স্পিডে চলতে সক্ষম।

  • মাউন্টিং: মোটরের গায়ে থাকা ব্র্যাকেট দেখে নিয়ে ফ্রেমের মাপ ঠিক করতে হবে।


৩. ৫৫ দাঁতের চেইন স্প্রকেট (55 Teeth Sprocket)

মোটরের শক্তি চাকায় ট্রান্সফার করার জন্য আমরা একটি ৫৫ দাঁতের স্প্রকেট ব্যবহার করছি।

  • কেন ৫৫ দাঁত: দাঁতের সংখ্যা যত বেশি হবে, স্কুটারটির টর্ক (Torque) বা টান তত বেশি হবে। ছোট চাকার ক্ষেত্রে বড় স্প্রকেট ব্যবহার করলে স্কুটারটি খুব দ্রুত স্পিড তুলতে পারে।

  • সেটআপ: ভিডিওতে আমি দেখিয়েছি কীভাবে ড্রিল মেশিন দিয়ে নাটগুলো টাইট করে স্প্রকেটটি চাকার সাথে নিখুঁতভাবে বসাতে হয়।

৪. ১৬০ মিমি ডিস্ক ব্রেক সেটআপ

নিরাপত্তার জন্য আমরা সামনের চাকায় একটি ১৬০ মিমি ডিস্ক ব্রেক প্লেট ব্যবহার করেছি।

  • সতর্কতা: ডিস্ক প্লেটটি লাগানোর সময় খেয়াল রাখবেন এটি যেন একদম সোজা থাকে। সামান্য বাঁকা থাকলে ব্রেক ধরার সময় বিকট শব্দ হতে পারে এবং ব্রেক প্যাড দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাবে।


৫. লিথিয়াম ব্যাটারি এবং স্মার্ট থ্রোটল

পুরো সিস্টেমকে পাওয়ার দেওয়ার জন্য আমি ব্যবহার করেছি একটি ২৪ ভোল্ট ১৫ অ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি।

  • মাইলেজ: এই ব্যাটারিটি দিয়ে আপনি অনায়াসে ৩০-৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারবেন।

  • থ্রোটল: এখানে একটি ব্লু অ্যালুমিনিয়াম ফিনিশ থ্রোটল ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্কুটারের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়।

অ্যাসেম্বলি করার আগে আমার পরামর্শ:

১. ড্রিল করার সময় মাপ যেন ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
২. প্রতিটি নাট লাগানোর আগে ওয়াশার (Washer) ব্যবহার করুন যাতে ভাইব্রেশনে নাট লুজ না হয়ে যায়।
৩. চাকা ঘুরিয়ে চেক করে নিন স্প্রকেটটি সোজা ঘুরছে কি না।


উপসংহার:

পার্টসগুলো সঠিকভাবে জোড়া দেওয়াই হলো একটি সফল প্রজেক্টের প্রথম ধাপ। আজকের এই ব্লগে আমি আপনাদের ছোট স্কুটারের পার্টসগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। আগামী পর্বে আমরা এই পার্টসগুলো দিয়ে ফ্রেম তৈরি এবং ফাইনাল লুক নিয়ে কাজ করবো।

আপনাদের যদি কোনো পার্টসের নাম বুঝতে বা ড্রিল করতে সমস্যা হয়, তবে নিচে কমেন্ট করুন। আমি আপনাদের টেকনিক্যাল সাহায্য করার চেষ্টা করবো।

ধন্যবাদ সবাইকে, সাথে থাকুন Monotos Creative-এর!



Comments