আর্টিকেলের শিরোনাম: ডিআইওয়াই গ্রিন ইলেকট্রিক স্কুটার: ২৫ কিমি গতি আর প্রিমিয়াম লুকের পূর্ণাঙ্গ গাইড

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! Monotos Creative-এর ব্লগে আপনাদের আবারো স্বাগতম। আপনারা যারা আমার গত ভিডিওগুলো দেখেছেন, তারা জানেন যে আমি একটি বিশেষ ডিজাইনের সবুজ রঙের স্কুটার নিয়ে কাজ করছিলাম। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এই স্কুটারটির ফাইনাল লুক এবং এটি তৈরিতে কী কী প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন ডিআইওয়াই বা নিজে বানানো স্কুটার দেখতে হয়তো খুব একটা সুন্দর হয় না। কিন্তু আজকের এই বিল্ডটি দেখলে আপনার ধারণা বদলে যাবে।


১. ডিজাইন ও কালার ফিনিশিং

এই স্কুটারটির প্রধান আকর্ষণ হলো এর উজ্জ্বল সবুজ রং। আমি ফ্রেমটিতে স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করে একটি শোরুম ফিনিশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর হ্যান্ডেলবার এবং অন্যান্য ছোট পার্টসে কালো রঙের ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে যা সবুজের সাথে দারুণ মানিয়েছে।

২. কার্বন ফাইবার স্টিকারের ব্যবহার

স্কুটারটির লুককে আরও প্রিমিয়াম করতে আমি এর ফুটবোর্ডে (যেখানে পা রাখা হয়) কার্বন ফাইবার টেক্সচার এর স্টিকার ব্যবহার করেছি। এটি যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনি এটি রাইডিং করার সময় পায়ের গ্রিপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। আপনারা যারা বাড়িতে বসে এই ধরনের প্রজেক্ট করছেন, তারা এই ধরনের স্টিকার ব্যবহার করে সাধারণ প্লাস্টিক বা মেটালকে দামী লুক দিতে পারেন।


৩. পাওয়ারফুল ৩৫০ ওয়াট মোটর ও টপ স্পিড

এই স্কুটারটিতে আমি ব্যবহার করেছি একটি ২৪ ভোল্ট ৩৫০ ওয়াট ব্রাশলেস মোটর।

  • স্পিড: এটি রাস্তায় খুব অনায়াসেই ৩০-৩৫ কিমি গতি তুলতে পারে।

  • টর্ক: পিছনের চাকার সাথে চেইন এবং স্প্রকেট এমনভাবে সেট করা হয়েছে যাতে দ্রুত স্পিড তোলা যায়। ভিডিওতে আপনারা দেখেছেন মোটরের শক্তি কতটা।

৪. সামনে ও পিছনে ডাবল চাকা (Stability)

স্কুটারটিকে রাস্তায় স্ট্যাবল বা ব্যালেন্সড রাখার জন্য আমি সামনে এবং পিছনে—উভয় পাশেই ডাবল চাকা ব্যবহার করেছি। মোট ৪টি চাকা থাকার কারণে এটি রাস্তায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং আপনাকে বাড়তি ব্যালেন্স করতে হয় না। যারা নতুন রাইডার, তাদের জন্য এই ৪-চাকা বিশিষ্ট ডিজাইনটি সেরা।


৫. হ্যান্ডেলবার ও স্মার্ট কন্ট্রোল

হ্যান্ডেলবারে আমি ব্যবহার করেছি নীল রঙের অ্যালুমিনিয়াম ফিনিশ থ্রোটল গ্রিপ। এতে একটি F/R (Forward/Reverse) সুইচ রয়েছে। অর্থাৎ এই স্কুটারটি আপনি চাবির মাধ্যমেই সামনে বা পিছনে নিতে পারবেন। এছাড়া এতে রয়েছে একটি শক্তিশালী ১২ ভোল্টের হর্ন যা জ্যামের রাস্তায় খুবই কার্যকর।


উপসংহার:

একটি সফল ডিআইওয়াই প্রজেক্টের সার্থকতা হলো এর ফিনিশিং। সঠিক কালার, ভালো মানের স্টিকার এবং মজবুত ওয়্যারিং আপনার প্রজেক্টকে সবার থেকে আলাদা করে তুলবে। আপনারা যারা এই সবুজ স্কুটারটি তৈরির নিয়ম বা পার্টস নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা নিচে কমেন্ট করুন।

বাংলাদেশে ই-বাইকের বিপ্লব শুরু হয়েছে, আর আমি চাই আপনারা সবাই এতে অংশ নিন। আপনার তৈরি করা স্কুটার বা সাইকেলের ছবি আমার ফেসবুক পেজে পাঠাতে ভুলবেন না!

ধন্যবাদ সবাইকে, সাথে থাকুন Monotos Creative-এর!



Comments